আপনি যদি মোবাইলের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করতে চান!তবে কিন্তু করতে পারেন সমস্যা নেই।কিন্তু মোবাইলের মাধ্যমে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করতে হয় বা মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় যদি আপনি না জেনে থাকেন,তাহলে কিন্তু কখনোই করতে পারবেন না।
![]() |
| মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় |
তাই সবার প্রথমে আপনাকে জানতে হবে মোবাইলের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করবেন? আর আজকের লেখার মধ্যে আপনাদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।
মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায়
মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যায় কিনাঃ Freelancing এর কাজ করতে হলে যে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থাকতে হবে বিষয়টা কিন্তু এরকম নয়!এখানে মূলত আপনার কাজ করার ইচ্ছাটাই আসলে। আপনার যদি কাজ করার ইচ্ছা না থাকে তাহলে আপনি ল্যাপটপ কম্পিউটার থাকলেও কাজ করতে পারবেন না।
![]() |
| মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় |
আর আপনার যদি কাজ করার ইচ্ছা থাকে,তাহলে আপনি মোবাইল দিয়ে ও ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করতে পারবেন।মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর কি কি কাজ করতে পারবেন তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। তবে হ্যাঁ এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো আপনি মোবাইল ফোন দিয়ে করতে পারবেন কিন্তু ল্যাপটপ কম্পিউটার ছাড়া করতে পারবেন না,তবে আজকের আর্টিকেলের মধ্যে এমন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে যেগুলো শুধুমাত্র মোবাইল দিয়ে করতে পারবেন।
মোবাইল দিয়ে যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তবে আপনার অবশ্যই যে কোন কাজের উপরে দক্ষতা থাকতে হবে।আপনার যদি কোন একটা কাজের উপর দক্ষ থাকে তাহলে আপনি সেই কাজটি অনলাইনের মাধ্যমে করে উপার্জন করতে পারবেন।আর তার সঙ্গে আপনার কাছে একটি হাই স্পিডের ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে, এগুলো থাকলেই আপনি মূলত কাজ শুরু করতে পারবেন।
১/ মোবাইল দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করতে পারেন
আপনি যদি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে চান তবে কিন্তু আপনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেটা খুব সহজেই করতে পারবেন।বর্তমানে বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যে ওয়েবসাইট গুলো ব্যবহার করে খুব সহজে গ্রাফিক্স ডিজাইনের ডিজাইনগুলো করা লাগে সেগুলো করে ফেলা যায়।আপনাদের সুবিধার্থে নিচে কিছু অ্যাপস এবং ওয়েবসাইটের নাম দিয়ে দিলাম ব্যবহার করে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর বিভিন্ন রকমের কাজ করতে পারবেন।
·
Pixlab
·
Picsart
·
Canva Pro
·
Adobe Photoshop Touch
·
illustrator (Mobile Version)
২/ কনটেন্ট
রাইটিং এর
কাজ করতে
পারেনঃ
আপনি যদি
কোন কাজে
দক্ষ হয়ে
থাকেন বা
কোন কিছু
সম্পর্কে অনেক
বেশি জ্ঞান
থেকে থাকে
অন্যদের থেকে
তাহলে কিন্তু
আপনি এই
সুযোগটি কাজে
লাগিয়ে অনলাইন
এর মাধ্যমে
বিভিন্ন ওয়েবসাইটে
কনটেন্ট লিখে
আয় করতে
পারেন।
মোবাইল ব্যবহার করে আপনি যদি কন্টেন্ট রাইটিং করে ইনকাম করতে চান তবে আপনাকে আপনার মোবাইল ফোনের মধ্যে শুধু নোটপ্যাড অপশনটি থাকলেই হবে। আর তাহলে আপনি খুব সহজে কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজগুলো করতে পারবেন।এছাড়াও আপনি যদি কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ করতে চান নিচের এপসগুলো ব্যবহার করে আপনার কাজ আরও সহজ করে তুলতে পারেন।
·
Google Docs
·
Wps Office
·
Microsoft Office Word
উপরে দেওয়া এই অ্যাপস গুলো ব্যবহার করে আপনি কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ করতে পারেন।এছাড়াও আপনি গুগল প্লে স্টোরে সার্চ করলে অনেক অ্যাপস পাবেন,আপনি সেখান থেকে আপনার পছন্দ মত যেকোনো একটি নোটপ্যাড ইন্সটল করে নিতে পারেন,আপনার মোবাইল ফোনের মধ্যে।কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ হচ্ছে আপনাকে বিভিন্ন ক্লাইন্টের ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লিখে দিতে হবে এবং তার বিনিময়ে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণে একটা অর্থ পাবেন।
আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস বাদে যদি আপনি বাংলাদেশী মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে চান,তাহলে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট কোনগুলো সেটা আপনাকে জানতে হবে।
বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং
সাইট
·
বিল্যান্সার
ডটকম
·
সচ্ছল ডটকম
·
কাজ খুঁজি
ডট কম
ডট বিডি
উপরে দেওয়া
তিনটি ওয়েবসাইট
হলো বাংলাদেশী
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস
আপনি এই
সমস্ত মার্কেটপ্লেস
গুলোর মধ্যে
একাউন্ট করেই
কাজ করতে
পারেন।
ফ্রিল্যান্সিং কোথায় শিখবো?
আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ কোথায় শিখবেন এই বিষয়টি নিয়ে যে আপনার মনে যদি এসে থাকে তবে এর সহজ উত্তর হল আপনি বিভিন্ন ভিডিও দেখতে পারেন ইউটিউবে আপনি যে কাজটি শিখতে চান সেটির উপরে তারপরে আপনি গুগলে গিয়ে সেই বিষয়ের উপরে বিভিন্ন টপিক লিখে সার্চ করতে পারেন।তাহলে অনেক আর্টিকেল পাবেন সেগুলো পরেও কিন্তু আপনি ধারণা নিতে পারবেন।
তাছাড়া আপনি
অনলাইনে বিভিন্ন
ফ্রি কোর্স
পাবেন সেগুলো
করার মাধ্যমে
কিন্তু আপনি
ফ্রিল্যান্সিং এর
কাজটা শিখে
নিতে পারেন।
৩/
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করতে পারেন
বাংলাদেশী বিভিন্ন
প্ল্যাটফর্ম রয়েছে
যেখানে আপনি
এফিলিয়েট মার্কেটিং
এর কাজ
করতে পারবেন
যেমন টেন
মিনিট স্কুল,
দারাজ, bdshop.com, msb academy.com,
shopup.com এছাড়াও আরো অনেক কোম্পানি রয়েছে
যেগুলো নির্দিষ্ট
একটা কমিশনের
বিনিময় তাদের
প্রোডাক্ট করার
সুযোগ দিয়ে
থাকে।
![]() |
| মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় |
আপনি ইচ্ছে
করলে আন্তর্জাতিক
যে সমস্ত
কোম্পানিগুলো রয়েছে
তাদের সাথে
মার্কেটিং করতে
পারেন যেমন
উদাহরণ হিসেবে
বলা যায়,amazon,
alibaba, Affiliate Marketing এর
কাজটি হলো
মূলত আপনাকে
বিভিন্ন কোম্পানির
প্রোডাক্ট বিক্রি
করে দিতে
হবে এবং
তার বিনিময়ে
আপনি ১৫
পার্সেন্ট থেকে
20 পার্সেন্ট কিংবা
কোম্পানি অনুযায়ী
আপনি নির্দিষ্ট
পরিমাণে একটা
কমিশন পাবেন।
আপনি এখানে দুই ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে পারবেন।একটা হল ডিজিটাল প্রোডাক্ট আরেকটা হল ফিজিক্যাল Product।আপনি যদি ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করেন,তাহলে কাস্টমার যখন আপনার এফিলিয়েট লিংক থেকে যে কোন প্রোডাক্ট অর্ডার করবে তার কিছুক্ষনের মধ্যেই আপনি আপনার কমিশনের টাকা পেয়ে যাবেন।
কিন্তু আপনি
যদি ফিজিক্যাল
যে সমস্ত
প্রোডাক্ট রয়েছে
সেগুলো নিয়ে
কাজ করেন।তাহলে
কাস্টমার যখন
প্রোডাক্টটি হাতে
পাবে এবং
কোম্পানির টাকা
পরিশোধ করবে
এবং সব
কাজ কমপ্লিট
হয়ে যাবে
বিক্রি করার
তারপরে আপনি
আপনার কমিশনের
টাকাটা আপনার
অ্যাকাউন্টের মধ্যে
দেখতে পাবেন।
আর এরপরে
আপনার একাউন্টে
যখন নির্দিষ্ট
পরিমাণ একটা টাকাযুক্ত হয়ে
যাবে তখন
আপনি সেই
টাকাটা আপনার
ব্যাংক একাউন্টের
মাধ্যমে কিংবা
সেই কোম্পানি
যে পেমেন্ট
অপশনটি ব্যবহার
করে থাকে
আপনি সেই
পেমেন্ট অপশনের
মাধ্যমে আপনার
টাকাটি নিয়ে
আসতে পারবেন
আপনার হাতে,
তবে বেশিরভাগ
ক্ষেত্রেই দেখা
যায় বিদেশি
মার্কেট প্লেস
গুলো ব্যাংক
অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে
পেমেন্ট করে
থাকে।
তাই আপনার
যদি একটি
ব্যাংক একাউন্ট
থাকে তাহলে
খুব সহজেই
আপনি আপনার
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে
টাকা আনতে
পারবেন।আর বাংলাদেশি
যে সকল
ওয়েবসাইট গুলো
রয়েছে যেখানে
মার্কেটিং করার
সুযোগ দেয়
সেখান থেকে
আপনি বিকাশ
নগদ কিংবা
বাংলাদেশে যে
সকল ফিনান্সিয়াল
অ্যাপস রয়েছে
সেগুলোর মাধ্যমে
আপনি আপনার
টাকাটা নিতে
পারবেন।
৪/
ফটোগ্রাফি করতে পারেন
ছবি তোলা যদি আপনার সখ হয়ে থাকে তাহলে এই সখ কাজে লাগিয়ে কিন্তু আপনি অনলাইনে মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন।অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যে ওয়েবসাইটে ছবি বিক্রি করা যায় আপনি আপনার সব থেকে ভালো তোলা যে ছবিগুলো রয়েছে সেগুলো কিন্তু ওই সকল ওয়েবসাইটে বিক্রি করে উপার্জন করতে পারবেন।
আপনার ছবিগুলো
যখন মানুষের
কিনবে তখন
কিন্তু আপনি
নির্দিষ্ট পরিমাণে
একটা কমিশন
পেতে থাকবেন।আর
আপনার একাউন্টে
যখন নির্দিষ্ট
পরিমাণ একটি
অর্থ যুক্ত
হয়ে যাবে
তখন আপনি
সেই টাকাটি
আপনার ব্যাংক
একাউন্টের মাধ্যমে
কিংবা সেই
ওয়েবসাইট যে
মাধ্যমে পেমেন্ট
করবে সেই
মাধ্যমে আপনি
পেমেন্টটি আপনার
হাতে সরাসরি
নিয়ে আসতে
পারবেন।
আর এই
কাজটি করার
জন্য কিন্তু
আপনার হাতের
মোবাইল ফোনটি
যথেষ্ট আপনি
হাতের মোবাইল
ফোন দিয়ে
যেকোনো ছবি
তুলে কিন্তু
সেগুলো বিক্রি
করে উপার্জন
করতে পারবেন
এর জন্য
কিন্তু আপনার
আলাদা করে
কোন ক্যামেরা
কিনতে হবে
না কিংবা
কম্পিউটার অথবা
ল্যাপটপ থাকার
দরকার হবে
না।
৫/ ট্রান্সলেশন করতে পারেন
আপনি যদি
একের অধিক
ভাষা জানা
থাকে তাহলে
কিন্তু আপনি
সেই সুযোগটি
কাজে লাগিয়ে
অনলাইন এর
মাধ্যমে ট্রান্সলেশন
এর কাজ
করতে পারেন।এক
কথায় বলে
ট্রান্সলেশন হলো
এক ভাষা
থেকে অন্য
ভাষায় কথা
রূপান্তর করা।ইউটিউব
এবং অন্যান্য
সকল সোশ্যাল
মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম
কিন্তু মানুষ
নির্দিষ্ট একটা
ভাষার উপরে
ভিডিও বানিয়ে
তারপরে সেটা
ইউটিউবে আপলোড
করে।
যার ফলে
নির্দিষ্ট সংখ্যার
একটা মানুষেরা
ওই ভিডিওগুলো
দেখে যারা
ভিডিওর মধ্যে
থাকা ভাষাটি
বুঝে না
তারা কিন্তু
কখনোই এই
ভিডিওটি দেখে
না কারণ
তারা ভাষায়
যদি না
বুঝে তাহলে
ভিডিও দেখে
কি করবে।আর
মূলত এই
কারণেই ট্রান্সলেশন
এর কাজের
প্রচুর পরিমাণে
চাহিদা রয়েছে
বর্তমানে মার্কেটপ্লেসগুলোতে, আপনি
এই সুযোগটাকে
কাজে লাগাতে
পারেন।
আপনি যদি
একের অধিক
ভাষা জানা
থাকে তাহলে
আপনি ট্রান্সলেশন
এর কাজ
করে কিন্তু
বেশ ভালো
পরিমাণে উপার্জন
করতে পারবেন
অনলাইনের মাধ্যমে।
এই কাজটি
করার জন্য
কিন্তু আপনার
কম্পিউটারের দরকার
হবে না
আপনি কিন্তু
মোবাইল ফোন
ব্যবহার করেই
এই কাজটি
সম্পন্ন করতে
পারবেন।
আপনি যদি কোন জায়গায় গিয়ে আটকে যান কিংবা কোন জায়গায় আপনার সমস্যা হয় তাহলে আপনি গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করতে পারেন।গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে কিন্তু খুব সহজে যে কোন ভাষা অন্য ভাষায় ট্রান্সলেট করে নিতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্সিং এর
কাজ গুলো
কোথায় পাবেন?
আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ পারেন তবে আপনি কিন্তু কাজ পেরে বসে থাকলেই হবে না।আপনাকে কিন্তু কাজগুলো খোঁজা লাগবে কোথায় এই কাজগুলো করার মাধ্যমে আপনি ইনকাম করতে পারবেন এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজগুলো করার জন্য আপনি বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস পাবেন অনলাইনে সেগুলোর মধ্যে আপনাকে একাউন্ট তৈরি করতে হবে এবং সেখানে গিগ তৈরি করতে হবে কিংবা কাজের জন্য এপ্লাই করতে হবে।তারপরে আপনি যখন কাজটি পাবেন তখন সেই কাজটি সম্পন্ন করে দিবেন এবং এরপরে আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে আপনার কাজের টাকা পেয়ে যাবেন এবং সেটি আপনি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উইড্রো করে নিতে পারবেন।
আমাদের শেষ
কথা
তাহলে আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা মোবাইলের মাধ্যমে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করবেন বা মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় সম্পর্কে জানতে পারলেন।
আর এই রকমের বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক তথ্য জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করবেন। এই ধরনের বিভিন্ন তথ্যমূলক আর্টিকেল আমাদের ওয়েবসাইটের মধ্যে প্রতিদিন পাবলিশ করা হয়ে থাকে।


